দিনাজপুর প্রতিনিধি | Taaraaz24
দিনাজপুরে গ্রীষ্মকালীন বেগুনে বাম্পার ফলন, দাম কমলেও লাভের আশায় কৃষকরা
দিনাজপুরের খানসামায় গ্রীষ্মকালীন বেগুনে বাম্পার ফলন হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে ভালো দাম পেলেও বর্তমানে বাজারদর কিছুটা কমেছে। উৎপাদন ভালো থাকায় কৃষকরা এখনও লাভের আশা করছেন। বিস্তারিত পড়ুন।

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় চলতি গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে বেগুনের উল্লেখযোগ্য ফলন কৃষকদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, কৃষি বিভাগের পরামর্শ এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর বেগুনের উৎপাদন প্রত্যাশার চেয়েও ভালো হয়েছে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম কিছুটা কমেছে, তবুও অধিকাংশ কৃষক মনে করছেন উৎপাদনের পরিমাণ বেশি হওয়ায় তারা লাভের মুখই দেখবেন।
মৌসুমের শুরুতে মিলেছে ভালো দাম
স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, মৌসুমের শুরুতে প্রতি মণ বেগুন ১,৫০০ থেকে ১,৭০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এতে উৎপাদন ব্যয়ের একটি বড় অংশ দ্রুত উঠে আসে। তবে গত কয়েক দিনে বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে একই পরিমাণ বেগুন ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা প্রতি মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।
কৃষকদের মতে, মূল্য কমলেও ক্ষেতে উৎপাদন অব্যাহত থাকায় সামগ্রিকভাবে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা নেই।
কৃষি বিভাগের সহায়তায় বাড়ছে আগাম বেগুন চাষ
খানসামা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কৃষকরা জানান, গত কয়েক বছর ধরে উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে উন্নত ও আগাম জাতের গ্রীষ্মকালীন বেগুন চাষের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। উন্নত জাতের বীজ, আধুনিক পরিচর্যা এবং নিয়মিত কৃষি পরামর্শের ফলে ফলনও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের ধারণা, এ ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদ ভবিষ্যতে আরও বেশি লাভজনক হয়ে উঠবে।
উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে, তবুও আশাবাদ
চাষিরা জানান, জ্বালানি তেল, রাসায়নিক সার, কীটনাশক এবং শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির কারণে এ বছর উৎপাদন ব্যয় আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। ফলে লাভের পরিমাণ কিছুটা কমে যেতে পারে।
তবে অধিক ফলনের কারণে অতিরিক্ত উৎপাদন সেই ব্যয়ের একটি বড় অংশ পুষিয়ে দেবে বলে তাদের বিশ্বাস।
এক বিঘায় লাখ টাকার বিক্রির সম্ভাবনা
অভিজ্ঞ কৃষকদের মতে, অনুকূল আবহাওয়া ও রোগবালাই কম থাকলে এক বিঘা জমি থেকে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত বেগুন বিক্রি করা সম্ভব। সব ধরনের ব্যয় বাদ দিয়েও উল্লেখযোগ্য মুনাফা অর্জন করা যায়।
এ বছর উৎপাদন খরচ বেড়ে গেলেও অধিকাংশ কৃষক আশা করছেন মৌসুম শেষে তারা লাভের অবস্থানেই থাকবেন।
আশ্বিন পর্যন্ত চলবে বাজারজাত
স্থানীয় কৃষকদের আশা, আগামী বাংলা আশ্বিন মাস পর্যন্ত ক্ষেত থেকে নিয়মিত বেগুন সংগ্রহ ও বাজারজাত করা সম্ভব হবে। এজন্য তারা প্রতিদিন ক্ষেত পরিচর্যা, সেচ ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
কৃষি বিভাগের তথ্য
খানসামা উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ২৫০ হেক্টর জমিতে গ্রীষ্মকালীন বেগুনের আবাদ হয়েছে। এলাকার মাটি ও আবহাওয়া এ ফসলের জন্য উপযোগী হওয়ায় উৎপাদন সন্তোষজনক হয়েছে।
কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, মৌসুমের শুরুতে কৃষকরা ভালো দাম পেয়েছেন। বর্তমানে বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম কিছুটা কমলেও উৎপাদনের পরিমাণ বেশি থাকায় অধিকাংশ কৃষক ক্ষতির মুখে পড়বেন না।
দেশের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে দিনাজপুরের বেগুন
স্থানীয় বাজারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দিনাজপুরের খানসামায় উৎপাদিত বেগুন প্রতিদিন পাইকারদের মাধ্যমে ঢাকা-সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। কৃষি বিভাগের দাবি, উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, যাতে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পান এবং বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে।
1
আপনার প্রতিক্রিয়া জানান




