আন্তর্জাতিক ডেস্ক | Taaraaz24
ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী দুই ভূমিকম্প: মৃতের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার, উদ্ধার অভিযান শেষ পর্যায়ে
ভেনেজুয়েলায় ২৪ জুন আঘাত হানা পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৩ হাজারে পৌঁছেছে। এখনও হাজারো মানুষ নিখোঁজ। উদ্ধার অভিযান শেষ পর্যায়ে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও ব্যাপক।

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ দুর্যোগে নিহতের সংখ্যা ২ হাজার ৯৫৪ জনে পৌঁছেছে। কয়েক দিনের ব্যবধানে মৃতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, আর ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বহু মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এখনও নিখোঁজ হাজারো মানুষ
সরকারিভাবে নিখোঁজ ব্যক্তির পূর্ণাঙ্গ সংখ্যা প্রকাশ না করা হলেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্যে জানা গেছে, এখনও বিপুলসংখ্যক মানুষের খোঁজ মেলেনি।
জাতিসংঘের প্রাথমিক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে বহু মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন এবং অনেক পরিবারের সদস্যদের অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ফলে চূড়ান্ত হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতি লা গুয়াইরা অঞ্চলে
রাজধানী কারাকাসের উত্তরে অবস্থিত উপকূলীয় লা গুয়াইরা অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে অসংখ্য বহুতল ভবন ও আবাসিক স্থাপনা ধসে পড়েছে।
হাজার হাজার পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ, বিশুদ্ধ পানি ও জরুরি সেবার সংকটও দেখা দিয়েছে।
মাত্র ৩৮ সেকেন্ডের ব্যবধানে আঘাত
ভূমিকম্প দুটি মাত্র ৩৮ সেকেন্ডের ব্যবধানে আঘাত হানে, যা ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এত অল্প সময়ের ব্যবধানে পরপর দুটি শক্তিশালী কম্পন ভবনগুলোর কাঠামোগত স্থিতিশীলতা ভেঙে দেয়, ফলে ধসের পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়।
উদ্ধার অভিযান শেষ পর্যায়ে
দুর্যোগের প্রায় ১০ দিন পর উদ্ধার কার্যক্রম ধীরে ধীরে সমাপ্তির দিকে যাচ্ছে।
যদিও প্রথম কয়েক দিনে ধ্বংসস্তূপ থেকে কয়েকজন জীবিতকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল, বর্তমানে নতুন করে জীবিত কাউকে পাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, ভূমিকম্পের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টা জীবিত উদ্ধারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচিত হয়।
আন্তর্জাতিক সহায়তায় পরিচালিত উদ্ধার অভিযান
যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের উদ্ধারকারী দল এবং দক্ষিণ আমেরিকার একাধিক বিশেষায়িত ইউনিট ভেনেজুয়েলায় উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেয়।
অনুসন্ধানী কুকুর, ভারী যন্ত্রপাতি এবং বিশেষ উদ্ধার সরঞ্জাম ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালানো হয়। তবে অভিযান শেষের দিকে আসায় আন্তর্জাতিক দলগুলো ধীরে ধীরে নিজ নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার অঙ্গীকার
দেশটির অন্তর্বর্তী প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং জরুরি সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
সরকারের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, অনেক পরিবার এখনও তাদের স্বজনদের খুঁজছেন এবং অসংখ্য মানুষ এক মুহূর্তে সবকিছু হারিয়েছেন। এই সংকট মোকাবিলায় সরকারি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
উদ্ধারকর্মীদের কঠিন লড়াই
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এখনও ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে ধ্বংসস্তূপ অপসারণের কাজ চলছে। উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, অনেক স্থানে এখনো মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে এবং সেগুলো শনাক্ত করে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কাজ চলছে। ধ্বংসস্তূপের অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় উদ্ধার কার্যক্রম অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করা হচ্ছে।
অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা
জাতিসংঘের প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলার অর্থনীতিতে প্রায় ৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্ষতি হয়েছে।
তেলনির্ভর দেশটি আগে থেকেই অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। নতুন এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ পুনর্গঠন কার্যক্রমকে আরও কঠিন করে তুলবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
বিমানবন্দর আংশিক চালু
ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত মাইয়াকেতিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বর্তমানে সীমিত পরিসরে চালু করা হয়েছে। মূলত আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা ও ত্রাণবাহী বিমান চলাচলের জন্য এটি ব্যবহার করা হচ্ছে।
তবে নিয়মিত বাণিজ্যিক ফ্লাইট এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
আপনার প্রতিক্রিয়া জানান




