শীর্ষ খবর
শীর্ষ খবরমতামত

বাংলাদেশ-নরওয়ে সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জোর

মঙ্গলবার (২ জুন) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সৌজন্য সাক্ষাতে বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকোন আরাল্ড গুলব্র্যান্ডসেনের সঙ্গে এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

TTaaraaz24১৪ Jun ২০২৬, ১২:৩৬ PM5 পাঠক0 মন্তব্য
বাংলাদেশ-নরওয়ে সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জোর
শেয়ার:FacebookXWhatsApp

বাংলাদেশ ও নরওয়ের মধ্যকার অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক এবং কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বিশেষ করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও গভীর করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২ জুন) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সৌজন্য সাক্ষাতে বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকোন আরাল্ড গুলব্র্যান্ডসেনের সঙ্গে এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় ছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, শিক্ষা এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।

Inside Artcle

দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের স্বীকৃতি

সাক্ষাতের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে দ্রুত স্বীকৃতি দেওয়া এবং দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার জন্য নরওয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করছে। একই সঙ্গে সরকার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মানবাধিকার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

অপরদিকে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির প্রশংসা করেন এবং জানান যে, নরওয়ে এখন কেবল উন্নয়ন সহযোগিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না; বরং বাণিজ্য ও বিনিয়োগভিত্তিক অংশীদারিত্বকে আরও বিস্তৃত করতে আগ্রহী।

বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনা

দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন যে, ওষুধ শিল্প, চামড়াজাত পণ্য, তথ্যপ্রযুক্তি সেবা, পাটজাত দ্রব্য এবং হস্তশিল্পের মতো খাতে নরওয়ের বাজারে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি নরওয়ের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, জাহাজ নির্মাণ শিল্প এবং আধুনিক প্যাকেজিং খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তার মতে, এসব খাতে যৌথ বিনিয়োগ দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দিতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগের আহ্বান

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় নরওয়ের আন্তর্জাতিক নেতৃত্বের প্রশংসা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, নদীভাঙন, বন্যা এবং ঘূর্ণিঝড়ের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, সবুজ জ্বালানি এবং নবায়নযোগ্য শক্তি খাতে যৌথ প্রকল্প গ্রহণের আহ্বান জানান। পাশাপাশি গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ড (জিসিএফ) এবং নরফান্ডের বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

শিক্ষা ও প্রযুক্তি সহযোগিতা সম্প্রসারণ

বৈঠকে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময়, গবেষণা সহযোগিতা, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এবং ডিজিটাল উদ্ভাবন কার্যক্রম বৃদ্ধির ওপর জোর দেন।

তিনি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নরওয়ের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাভিত্তিক বৃত্তির সুযোগ আরও সম্প্রসারণের অনুরোধ জানান। তার মতে, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার মাধ্যমে দুই দেশই পারস্পরিকভাবে লাভবান হতে পারে।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভূমিকা

আলোচনায় নরওয়েতে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের অবদানের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। উভয় পক্ষই একমত হন যে, প্রবাসী বাংলাদেশিরা দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছেন।

তাদের অংশগ্রহণ ও অবদানের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারিত হতে পারে বলে মত প্রকাশ করা হয়।

রোহিঙ্গা সংকট: টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক ভূমিকার আহ্বান

বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল রোহিঙ্গা সংকট। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের জন্য নরওয়ের মানবিক সহায়তার প্রশংসা করেন এবং নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের কার্যক্রমেরও উল্লেখ করেন।

তবে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার উপস্থিতি বাংলাদেশের নিরাপত্তা, পরিবেশ, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। ফলে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান এখন সময়ের দাবি।

রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে নরওয়ে ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে মিয়ানমারের ওপর কার্যকর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।

সহযোগিতার আশ্বাস নরওয়ের

জবাবে নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকোন আরাল্ড গুলব্র্যান্ডসেন বলেন, বাংলাদেশ ও নরওয়ে মানবাধিকার, শান্তি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং টেকসই উন্নয়নের মতো অভিন্ন মূল্যবোধে বিশ্বাসী।

তিনি আশ্বস্ত করেন যে, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে নরওয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গভীর ও বহুমাত্রিক করার ক্ষেত্রেও নরওয়ে আগ্রহী।

উপসংহার

বাংলাদেশ ও নরওয়ের মধ্যকার সাম্প্রতিক এই কূটনৈতিক আলোচনা স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে, দুই দেশ ভবিষ্যতে উন্নয়ন সহযোগিতার প্রচলিত কাঠামো অতিক্রম করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জলবায়ু উদ্যোগ, শিক্ষা এবং প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্বের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে চায়। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে। ফলে এই বৈঠক দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর ও ফলপ্রসূ করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

মন্তব্য (0)

Taaraaz Construction – Quality, Trust & Excellence in Every Project!
sticky add
popup