বাংলাদেশের স্বর্ণের বাজারে আজ বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, সর্বশেষ নির্ধারিত মূল্যেই স্বর্ণ কেনাবেচা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারের গতিপ্রকৃতি, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের মূল্য এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম নিয়মিত সমন্বয় করে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন বা বাজুস।
আজকের স্বর্ণের দাম: ১৯ আগস্ট ২০২৬
বাংলাদেশের স্বর্ণের বাজারে আজ বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, সর্বশেষ নির্ধারিত মূল্যেই স্বর্ণ কেনাবেচা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারের গতিপ্রকৃতি, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের মূল্য এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম নিয়মিত সমন্বয় করে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন বা বাজুস।

বর্তমানে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৯ টাকা। বিয়ের মৌসুম, সামাজিক অনুষ্ঠান, উপহার কিংবা দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের জন্য যারা স্বর্ণ কেনার কথা ভাবছেন, তাদের জন্য আজকের বাজারদর জানা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
১৯ আগস্টের স্বর্ণের সর্বশেষ দাম
বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারেও নিয়মিত বাড়ানো বা কমানো হচ্ছে স্বর্ণের দাম। বর্তমানে দেশের বাজারে সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৯ টাকা। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) নির্ধারিত এ দাম গত ১৫ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
অর্থাৎ আজ ১৯ আগস্ট নতুন কোনো মূল্য ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত এই দরেই স্বর্ণ কেনাবেচা চলছে।
নতুন কোনো মূল্য ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত বুধবার (১৯ আগস্ট) সর্বশেষ সমন্বয় করা দামেই দেশের বাজারে স্বর্ণ কেনাবেচা হচ্ছে।
বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী স্বর্ণের বিভিন্ন মানের মূল্য নিচে দেওয়া হলো:
| স্বর্ণের মান | প্রতি ভরি দাম |
| ২২ ক্যারেট | ২,৩৬,৭৭৯ টাকা |
| ২১ ক্যারেট | ২,২৬,১৬৫ টাকা |
| ১৮ ক্যারেট | ১,৯৪,২০৬ টাকা |
| সনাতন পদ্ধতি | ১,৫৮,৬৩০ টাকা |
এক ভরি স্বর্ণের ওজন ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম।
২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম
সর্বশেষ মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি বা ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম স্বর্ণালংকারের দাম ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৯ টাকা। এর আগে প্রতি ভরির দাম ছিল ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা।
অর্থাৎ আগের দামের তুলনায় প্রতি ভরিতে ২ হাজার ১৫৮ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। কয়েক হাজার টাকার এই পরিবর্তন ছোট মনে হলেও একাধিক ভরি স্বর্ণ কেনার ক্ষেত্রে মোট ব্যয়ের ওপর এর প্রভাব যথেষ্ট বড় হতে পারে।
ধরা যাক, কোনো ক্রেতা ৫ ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণ কিনতে চান। শুধু ঘোষিত স্বর্ণের মূল্য হিসাব করলেও মোট দাম দাঁড়াবে ১১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৯৫ টাকা। এর সঙ্গে অলংকারের ধরন ও নকশা অনুযায়ী মজুরি যুক্ত হতে পারে।
২১ ও ১৮ ক্যারেটের দাম
এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার ১৬৫ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ২০৬ টাকায়। অন্যদিকে, সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ টাকা।
স্বর্ণের ক্যারেট মূলত এর বিশুদ্ধতার মাত্রা নির্দেশ করে। ২৪ ক্যারেটকে সবচেয়ে বিশুদ্ধ স্বর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও গহনা তৈরিতে সাধারণত বিভিন্ন মাত্রার ক্যারেটের স্বর্ণ ব্যবহৃত হয়। কারণ অলংকারকে টেকসই ও ব্যবহারোপযোগী করতে নির্দিষ্ট পরিমাণ অন্যান্য ধাতু মেশানো প্রয়োজন হতে পারে।
২২ ক্যারেটের গহনার চাহিদা বাংলাদেশে তুলনামূলকভাবে বেশি। বিশেষ করে বিয়ের গহনা ও উচ্চমূল্যের অলংকারের ক্ষেত্রে এই মান বহুল ব্যবহৃত।
গহনা কিনলে মজুরি যুক্ত হবে
ঘোষিত স্বর্ণের দাম দেখেই অনেক ক্রেতা চূড়ান্ত খরচ অনুমান করেন। কিন্তু বাস্তবে গহনা কেনার ক্ষেত্রে হিসাবটি কিছুটা ভিন্ন।
বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে স্বর্ণালংকারের নকশা ও ধরনভেদে মজুরি যুক্ত হবে। স্বর্ণ ও রৌপ্যালংকারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না।
অর্থাৎ একটি আংটি, চেইন, বালা, হার কিংবা কানের দুলের ক্ষেত্রে স্বর্ণের মূল দামের পাশাপাশি নির্মাণ বা কারিগরি মজুরি বিবেচনা করতে হবে। জটিল নকশা, সূক্ষ্ম কারুকাজ কিংবা বিশেষ ধরনের অলংকারে এই মজুরি তুলনামূলক বেশি হতে পারে।
তাই ক্রেতাদের উচিত কেনার আগে মোট বিলের কাঠামো স্পষ্টভাবে জেনে নেওয়া। স্বর্ণের ওজন কত, ক্যারেট কত, মজুরি কত এবং ভ্যাট কীভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, এসব তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
এক্সচেঞ্জ ও পারচেজে পুরোনো নিয়ম
এ ছাড়া সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে অলংকার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের আগের নিয়ম বহাল থাকবে।
পুরোনো স্বর্ণের গহনা পরিবর্তন করে নতুন গহনা নেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক ক্রেতাই এই নিয়মের আওতায় পড়েন। এ ক্ষেত্রে পুরোনো অলংকারের মূল্য নির্ধারণ, স্বর্ণের বিশুদ্ধতা, ওজন এবং প্রযোজ্য কাটছাঁটের হিসাব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
বিশেষ করে পাথরযুক্ত গহনার ক্ষেত্রে স্বর্ণের মূল্য এবং পাথরের মূল্যকে আলাদা করে বিবেচনা করা প্রয়োজন। ক্রেতার জন্য স্বচ্ছ হিসাব পাওয়া এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রুপার দাম অপরিবর্তিত
স্বর্ণের বাজারে মূল্য পরিবর্তন হলেও রুপার বাজারে আজ কোনো নতুন সমন্বয় করা হয়নি।
এদিকে, স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হলেও রুপার দামে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বর্তমানে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৭৪ টাকায়। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম ৪ হাজার ৮৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ১৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ১৪৯ টাকায়।
রুপার বর্তমান দাম:
| রুপার মান | প্রতি ভরি দাম |
| ২২ ক্যারেট | ৫,০৭৪ টাকা |
| ২১ ক্যারেট | ৪,৮৪১ টাকা |
| ১৮ ক্যারেট | ৪,১৯৯ টাকা |
| সনাতন পদ্ধতি | ৩,১৪৯ টাকা |
ফলে স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার অলংকার কিনতে আগ্রহী ক্রেতারাও আজকের নির্ধারিত দর অনুসরণ করতে পারবেন।
স্বর্ণ কেনার আগে যা জানা জরুরি
বর্তমান বাজারে স্বর্ণের দাম দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। তাই কেনাকাটার আগে সর্বশেষ বাজুস নির্ধারিত দর যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে শুধু প্রতি ভরির দাম জানলেই যথেষ্ট নয়।
ক্রেতাকে অলংকারের প্রকৃত ওজন, ক্যারেট, মজুরি এবং ভ্যাটের হিসাব বুঝে নিতে হবে। বড় অঙ্কের কেনাকাটার ক্ষেত্রে অবশ্যই বিস্তারিত রসিদ সংগ্রহ করা উচিত। রসিদে স্বর্ণের মান, ওজন, মূল্য এবং মজুরি স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকলে ভবিষ্যতে কোনো বিরোধ বা বিভ্রান্তি এড়ানো সহজ হয়।
১৯ আগস্ট ২০২৬-এর বাজারদরে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি মূল্য ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৯ টাকা। ২১ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ২৬ হাজার ১৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৯৪ হাজার ২০৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ টাকা।
অন্যদিকে ২২ ক্যারেট রুপার প্রতি ভরি দাম ৫ হাজার ৭৪ টাকা।
নতুন কোনো ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এই মূল্যেই দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার কেনাবেচা চলবে। তবে বাজারের গতিশীলতা বিবেচনায় ক্রেতাদের কেনাকাটার দিনকার সর্বশেষ দর যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ পন্থা।
আপনার প্রতিক্রিয়া জানান






