শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, ব্যক্তিগত সমালোচনা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল কোনোভাবেই তাঁকে দায়িত্ব পালনের পথ থেকে সরাতে পারবে না। শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন, সংস্কার কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে সরকার নির্ধারিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তিনি দৃঢ়ভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
শিক্ষাখাতে চলমান সংস্কার কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের পথে ব্যক্তিগত সমালোচনা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল কিংবা বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক মন্তব্যকে গুরুত্ব দিয়ে নিজের কাজ থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ নেই। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই শিক্ষার মানোন্নয়ন, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকর নীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ চলছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের সময় বিভিন্ন মতামত ও সমালোচনা আসতেই পারে, তবে গঠনমূলক সমালোচনাকে তিনি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের মন্তব্য, সমালোচনা কিংবা ট্রল বর্তমান সময়ে একটি সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এসব কারণে দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের প্রভাব পড়বে না। বরং জনগণের স্বার্থে এবং শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে আরও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, যুগোপযোগী এবং দক্ষতাভিত্তিক করতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। নতুন শিক্ষানীতি, ডিজিটাল শিক্ষা সম্প্রসারণ, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাজের মূল্যায়ন হওয়া উচিত তাদের কার্যক্রম ও অর্জনের ভিত্তিতে। ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অযৌক্তিক সমালোচনা সাময়িকভাবে আলোচনার জন্ম দিলেও তা দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে না। তাই তিনি সবাইকে গঠনমূলক মতামত দেওয়ার আহ্বান জানান, যাতে শিক্ষাখাতের উন্নয়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করা সম্ভব হয়।
শিক্ষাবিদদের মতে, গণতান্ত্রিক সমাজে সমালোচনা স্বাভাবিক একটি বিষয়। তবে সেই সমালোচনা যদি তথ্যনির্ভর ও গঠনমূলক হয়, তাহলে তা নীতি নির্ধারণ ও সেবার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যদিকে ব্যক্তিগত বিদ্বেষমূলক মন্তব্য বা ট্রল অনেক সময় ইতিবাচক আলোচনা থেকে মনোযোগ সরিয়ে দেয়।
বক্তব্যের শেষাংশে শিক্ষামন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা এবং দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য অর্জনে তিনি দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবেন এবং কোনো ধরনের নেতিবাচক প্রচারণা বা ট্রল তাঁকে দায়িত্ব পালন থেকে বিচ্যুত করতে পারবে না।