শীর্ষ খবর
শীর্ষ খবরইরান যুদ্ধ

ইমরান খানের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পাকিস্তান সরকারের প্রতি সাবেক ক্রিকেট অধিনায়কদের আহ্বান

কারাগারে থাকা পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্বের সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অধিনায়কদের একটি দল। কারাগারে থাকা পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক ইমরান খানের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে দেশটির সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্বের ২১ জন সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অধিনায়ক। রোববার তাঁরা এ বিষয়ে পাকিস্তান সরকারের কাছে একটি চিঠি পাঠান। খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

TTaaraaz24bd২৪ Aug ২০২৬, ০৯:১২ AM0 পাঠক0 মন্তব্য
ইমরান খানের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পাকিস্তান সরকারের প্রতি সাবেক ক্রিকেট অধিনায়কদের আহ্বান
শেয়ার:FacebookXWhatsApp

 কারাগারে থাকা পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশ্বের সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অধিনায়কদের একটি দল। কারাগারে থাকা পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক ইমরান খানের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে দেশটির সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্বের ২১ জন সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অধিনায়ক। রোববার তাঁরা এ বিষয়ে পাকিস্তান সরকারের কাছে একটি চিঠি পাঠান।

Inside Artcle

খবর বার্তা সংস্থা এএফপির।

চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক সুনীল গাভাস্কার ও কপিল দেব। ক্রিকেট বিশ্বের পরিচিত ও প্রভাবশালী সাবেক অধিনায়কদের এই সম্মিলিত উদ্যোগ ইমরান খানের স্বাস্থ্য পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

ইমরান খান পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। খেলোয়াড় হিসেবে তিনি শুধু জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দেননি, বিশ্বকাপ জয়ও এনে দিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করে দেশের প্রধানমন্ত্রী হন। ফলে তাঁর বর্তমান কারাবাস এবং স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিষয়টি পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিসরের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

কারাগারে ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ

ইমরান খান ২০২৩ সাল থেকে কারাগারে রয়েছেন। গত বছরের শেষ দিকে দুর্নীতির মামলায় তাঁকে ও তাঁর স্ত্রীকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে তাঁরা দুজনই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

৭৩ বছর বয়সী ইমরান খানকে শুক্রবার হাসপাতালে নেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর আবার কারাগারে পাঠানো হয়। আদালতের নির্দেশে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর জন্য তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনা তাঁর চিকিৎসা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করে।

এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে চিকিৎসার জন্য ইসলামাবাদের বেসরকারি শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দেয়। তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আইনজীবীরা আদালতে আবেদন করার পর এ নির্দেশ আসে।

আদালতের নির্দেশের বিষয়টি ইমরানের চিকিৎসাকে একটি আনুষ্ঠানিক ও বিচারিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে এসেছে। এখন আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষার স্বাধীনতা, চিকিৎসকদের পরামর্শ বাস্তবায়ন এবং পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের সুযোগ।

তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি

এর আগে ফেব্রুয়ারিতেও ইমরানের চিকিৎসা নিয়ে পাকিস্তান সরকারকে চিঠি দিয়েছিলেন সাবেক ক্রিকেট অধিনায়কদের এই দল। এবারের চিঠিতে তাঁরা মূলত তিনটি দাবি জানিয়েছেন।

প্রথমত, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত মেডিকেল বোর্ডকে ইমরান খানের সম্পূর্ণ ও স্বাধীন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার সুযোগ দিতে হবে। বিশেষ করে তাঁর ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার যে খবর পাওয়া গেছে, সেটিকে গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

দ্বিতীয়ত, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ইমরানের পরিবারের সদস্যদের সাপ্তাহিক সাক্ষাৎ নিয়মিতভাবে চালু রাখতে হবে এবং এতে কোনো বাধা বা প্রশাসনিক বিলম্ব করা যাবে না।

তৃতীয়ত, স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা যে চিকিৎসার পরামর্শ দেবেন, তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।

এই তিন দাবির মধ্যে একটি সুস্পষ্ট কাঠামো রয়েছে। প্রথমে প্রয়োজন নিরপেক্ষ স্বাস্থ্য মূল্যায়ন। এরপর পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ। সবশেষে চিকিৎসকদের সুপারিশ যথাসময়ে কার্যকর করা। কারাবন্দি একজন প্রবীণ ব্যক্তির স্বাস্থ্যসেবাকে কেন্দ্র করে দাবিগুলো মূলত মানবিক ও চিকিৎসাগত নিশ্চয়তার দিকেই ইঙ্গিত করছে।

ক্রিকেট বিশ্বের পরিচিত মুখদের স্বাক্ষর

চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের তালিকায় ক্রিকেট ইতিহাসের একাধিক প্রভাবশালী নাম রয়েছে। ভারতের দিলীপ ভেংসরকার ছাড়াও ইংল্যান্ডের মাইকেল আথারটন, মাইকেল ব্রিয়ারলি, নাসের হুসেইন, অ্যান্ড্রু স্ট্রস ও ডেভিড গাওয়ার এতে স্বাক্ষর করেছেন।

অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়কদের মধ্যে রয়েছেন অ্যালান বোর্ডার, ইয়ান চ্যাপেল, বেলিন্ডা ক্লার্ক, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, স্টিভ ওয়াহ ও কিম হিউজ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ক্লাইভ লয়েড এবং নিউজিল্যান্ডের জন রাইটও চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন।

এই তালিকা তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ স্বাক্ষরকারীরা বিভিন্ন যুগ, দেশ ও ক্রিকেট সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করেন। তাঁদের সম্মিলিত অবস্থান তাই কেবল ব্যক্তিগত সমর্থনের প্রকাশ নয়, বরং ইমরান খানের ক্রিকেটীয় উত্তরাধিকার এবং তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে একটি বৃহত্তর উদ্বেগের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ক্রিকেট থেকে রাজনীতির মঞ্চে

ইমরান খান ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে অনাস্থা ভোটে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন। তাঁর সরকারের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রভাবশালী সামরিক প্রতিষ্ঠানের সম্পর্কের টানাপোড়েনও ওই রাজনৈতিক সংকটের অন্যতম কারণ ছিল।

এরপর থেকে দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। ইমরান খান ও তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দাবি করে আসছে, এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

তাঁর রাজনৈতিক উত্থান পাকিস্তানের প্রচলিত রাজনৈতিক সমীকরণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছিল। ক্রিকেট মাঠের জনপ্রিয়তাকে রাজনৈতিক পুঁজি হিসেবে ব্যবহার করে তিনি নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ঘটান। তাঁর নেতৃত্বে পিটিআই জাতীয় রাজনীতিতে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করে।

অন্যদিকে, ক্ষমতা হারানোর পর তাঁর বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তার পাকিস্তানের রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও তীব্র করে। তাঁর সমর্থকেরা বিভিন্ন সময়ে এসব আইনি পদক্ষেপকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। পাকিস্তানের কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার নিজস্ব অবস্থান রয়েছে।

২০২৩ সালের গ্রেপ্তার ও পরবর্তী পরিস্থিতি

২০২৩ সালের মে মাসে ইমরান খানের গ্রেপ্তারের পর পাকিস্তানজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। এর কিছু অংশ সহিংস রূপ নেয় এবং শত শত মানুষ গ্রেপ্তার হন।

এই ঘটনাগুলো পাকিস্তানের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি অস্থির অধ্যায়ের সূচনা করে। ইমরানের গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে দেশটির বিভিন্ন শহরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রাজনৈতিক সংঘাত, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে রাজনৈতিক দলের টানাপোড়েন তখন জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে।

পরবর্তী সময়ে ইমরানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলতে থাকে। কারাবাস দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর স্বাস্থ্যও রাজনৈতিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

চিকিৎসার দাবিতে আন্তর্জাতিক প্রতিধ্বনি

সাবেক ক্রিকেট অধিনায়কদের চিঠিটি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে আদালত, আইনজীবী, পরিবার এবং রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। ক্রিকেট মাঠে তাঁর নেতৃত্বের স্মৃতি এখনও বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত। সেই পরিচিতির কারণেই হয়তো তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলের প্রতিক্রিয়া বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

চিঠিতে রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণের পরিবর্তে চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। স্বাধীন স্বাস্থ্য পরীক্ষা, চিকিৎসকদের পরামর্শ বাস্তবায়ন এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত সাক্ষাতের সুযোগ—এই তিনটি দাবিই মূলত মানবিক বিবেচনা ও চিকিৎসা ব্যবস্থার স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পর্কিত।

ইমরান খানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী হবে, তা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বিষয়। কিন্তু তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করার প্রশ্নটি আলাদা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সাবেক অধিনায়কদের এই উদ্যোগ সেই পার্থক্যটিকেই সামনে নিয়ে এসেছে।

আপনার প্রতিক্রিয়া জানান

মন্তব্য (0)

sticky add
Popup