উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন বাজেট বরাদ্দ নিয়ে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন নাহিদ ইসলাম। তাঁর দাবি, অঞ্চলভিত্তিক ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বাজেট বণ্টনে স্বচ্ছতা ও সমতা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন প্রকল্পে অধিক গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন বাজেট নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন, পরিকল্পিতভাবে উত্তরাঞ্চলের জন্য বরাদ্দ কমানো হয়েছে, যার ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলমান উন্নয়ন বৈষম্য আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি অঞ্চলের উন্নয়ন সমান গুরুত্ব পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে উত্তরাঞ্চল কাঙ্ক্ষিত বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
নাহিদ ইসলামের মতে, উত্তরাঞ্চল কৃষি, খাদ্য উৎপাদন এবং প্রাকৃতিক সম্পদের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলেও অবকাঠামো, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে এখনো অনেক পিছিয়ে রয়েছে। তাই এ অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নের জন্য বাজেটে বাস্তব প্রয়োজনের ভিত্তিতে বরাদ্দ বাড়ানো জরুরি।
তিনি আরও বলেন, আঞ্চলিক বৈষম্য কমাতে শুধু বড় প্রকল্প গ্রহণ করলেই হবে না; শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সড়ক যোগাযোগ, সেচব্যবস্থা, নদী ব্যবস্থাপনা এবং শিল্প খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। এসব খাতে পর্যাপ্ত অর্থায়ন না হলে উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হবে না।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ভারসাম্যপূর্ণ জাতীয় উন্নয়নের জন্য অঞ্চলভিত্তিক চাহিদা ও বাস্তবতা বিবেচনায় বাজেট বণ্টন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পিছিয়ে থাকা অঞ্চলে বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য হ্রাস এবং স্থানীয় অর্থনীতির গতিশীলতা বৃদ্ধি পেতে পারে। একই সঙ্গে রাজধানীকেন্দ্রিক উন্নয়নের চাপও কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করেন, উন্নয়ন বাজেট বরাদ্দে স্বচ্ছতা, তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের দক্ষতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কোনো অঞ্চল যেন বৈষম্যের শিকার না হয়, সেদিকে নীতিনির্ধারকদের বিশেষ নজর দেওয়া উচিত। উন্নয়ন পরিকল্পনায় স্থানীয় জনগণের মতামত এবং বাস্তব চাহিদাকে গুরুত্ব দিলে প্রকল্পের কার্যকারিতাও বাড়বে।
এদিকে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংগঠনও দীর্ঘদিন ধরে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্প স্থাপন, কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি শক্তিশালীকরণ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির দাবিতে সোচ্চার। তাদের মতে, সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বাজেট বরাদ্দে আঞ্চলিক ভারসাম্য বজায় রাখা সময়ের দাবি।
সব মিলিয়ে, উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন বাজেট নিয়ে উত্থাপিত এই আলোচনা শুধু একটি অঞ্চলের বরাদ্দের বিষয় নয়; বরং এটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনা, আঞ্চলিক বৈষম্য দূরীকরণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, ভবিষ্যতে বাজেট প্রণয়নের সময় সব অঞ্চলের প্রয়োজন ও সম্ভাবনাকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হলে টেকসই ও সুষম জাতীয় উন্নয়ন নিশ্চিত করা সহজ হবে।