বিশ্বকাপ ২০২৬-এ ইরানের সঙ্গে ০-০ গোলে ড্র করেছে বেলজিয়াম। লাল কার্ড, বাতিল গোল এবং দারুণ রক্ষণে এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে দুই দল।
ইরানের রক্ষণভাগে আটকে গেল বেলজিয়াম, গোলশূন্য ড্রয়ে বাড়ল বিদায়ের শঙ্কা
ঢাকা, ২২ জুন ২০২৬: ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ টানা দ্বিতীয় ম্যাচেও জয় তুলে নিতে ব্যর্থ হয়েছে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল বেলজিয়াম। গ্রুপ ‘জি’-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ইরানের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেছে রেড ডেভিলসরা। ম্যাচের শেষভাগে ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া বেলজিয়াম কোনোমতে এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়লেও নকআউট পর্বে ওঠার লড়াই এখন আরও কঠিন হয়ে পড়েছে তাদের জন্য।
লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত ম্যাচে কেভিন ডি ব্রুইনা, রোমেলু লুকাকু ও থিবো কোর্তোয়ার মতো তারকা খেলোয়াড়দের নিয়ে সাজানো বেলজিয়াম দল প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স দেখাতে পারেনি। বরং শৃঙ্খলাবদ্ধ ও আত্মবিশ্বাসী ইরানের বিপক্ষে পুরো ম্যাচজুড়েই সংগ্রাম করতে হয়েছে তাদের।
বাতিল হলো তারেমির দুর্দান্ত গোল
ম্যাচের প্রথমার্ধে ইরানই কয়েকটি বিপজ্জনক আক্রমণ গড়ে তোলে। মাঝমাঠে সংগঠিত ফুটবল এবং রক্ষণ থেকে দ্রুত পাল্টা আক্রমণে বেলজিয়ামকে চাপে রাখে এশিয়ার প্রতিনিধিরা।
প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে ইরানের তারকা স্ট্রাইকার মেহদি তারেমি একটি দারুণ পরিকল্পিত ফ্রি-কিক থেকে বল জালে পাঠান। সাবেক ইন্টার মিলান তারকা বেলজিয়ামের ডিফেন্স ভেদ করে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে গোল করলেও ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (VAR) পর্যালোচনায় তাকে অফসাইড ঘোষণা করা হয়। ফলে গোলটি বাতিল হয়ে যায়।
এই সিদ্ধান্তে গ্যালারিতে থাকা হাজারো ইরানি সমর্থক হতাশ হলেও মাঠে তাদের দলের আত্মবিশ্বাসে কোনো প্রভাব পড়েনি।

ছবি : সংগৃহীত
বলের দখলে আধিপত্য, কিন্তু গোলের দেখা নেই
ইরান শুরু থেকেই পাঁচ ডিফেন্ডারের রক্ষণাত্মক কৌশল গ্রহণ করে। ফলে বেলজিয়াম বলের দখলে আধিপত্য বিস্তার করলেও স্পষ্ট গোলের সুযোগ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়।
রোমেলু লুকাকুকে শুরুর একাদশে রাখা হলেও তিনি ম্যাচে খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারেননি। প্রথমার্ধে তার একমাত্র উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা ছিল একটি হেড, যা ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।
অন্যদিকে ইরানের আক্রমণগুলো ছিল তুলনামূলকভাবে বেশি কার্যকর। দীর্ঘ থ্রো-ইনের পর হোসেইন কানানির নেওয়া শক্তিশালী শট দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দেন বেলজিয়ান গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া।
দ্বিতীয়ার্ধেও জমাট লড়াই
বিরতির পর ম্যাচের গতি কিছুটা বাড়ানোর চেষ্টা করে বেলজিয়াম। তবে ইরানও পাল্টা আক্রমণে সমান বিপজ্জনক ছিল।
মেহদি তারেমির একটি কোনাকুনি শট আবারও দারুণভাবে সেভ করেন কোর্তোয়া। অন্যদিকে বেলজিয়ামের হয়ে কেভিন ডি ব্রুইনার পাস থেকে ম্যাক্সিম ডি কুইপারের নেওয়া শট অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন ইরানের গোলরক্ষক।
ম্যাচের প্রায় এক ঘণ্টা পর বেলজিয়াম কোচ রুডি গার্সিয়া একসঙ্গে তিনটি পরিবর্তন এনে আক্রমণে নতুন গতি আনার চেষ্টা করেন। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা আর পাওয়া যায়নি।
লাল কার্ডে বিপাকে বেলজিয়াম
ম্যাচের অন্যতম নাটকীয় মুহূর্ত আসে শেষ দিকে। সেন্টার-ব্যাক ন্যাথান এনগয় একটি দুর্বল ব্যাকপাস দেন, যা ধরে ফেলার সুযোগ তৈরি হয় মেহদি তারেমির সামনে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে এনগয় ইচ্ছাকৃতভাবে হাত ব্যবহার করে তারেমিকে থামানোর চেষ্টা করেন। ফলে রেফারি সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে তাকে মাঠ থেকে বের করে দেন।
বাকি সময় ১০ জন নিয়ে খেলেও কোনো গোল হজম করেনি বেলজিয়াম। তবে জয় না পাওয়ায় দলটির ওপর চাপ আরও বেড়ে গেছে।
গ্রুপ ‘জি’-তে জমে উঠেছে সমীকরণ
এই ড্রয়ের ফলে গ্রুপ ‘জি’-এর এখন পর্যন্ত তিনটি ম্যাচই ড্রয়ে শেষ হয়েছে। দুই ম্যাচে দুই পয়েন্ট নিয়ে বেলজিয়াম এখনও নকআউট পর্বে ওঠার লড়াইয়ে টিকে থাকলেও শেষ ম্যাচে জয় ছাড়া বিকল্প নেই।
গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বেলজিয়ামের প্রতিপক্ষ হবে বিশ্বকাপের সবচেয়ে নিচু র্যাঙ্কধারী দল নিউজিল্যান্ড। তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ হওয়ায় কিছুটা স্বস্তিতে রয়েছে রেড ডেভিলসরা।
অন্যদিকে ইরান শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে মিশরের। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশসংক্রান্ত জটিলতা, ভিসা সমস্যা এবং নানা প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও ইরান যেভাবে মাঠে লড়াই করছে, তা ফুটবল বিশ্লেষকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
ইরানের আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্স
দুই ম্যাচ শেষে ইরান প্রমাণ করেছে যে তারা শুধু অংশগ্রহণ করতেই বিশ্বকাপে আসেনি, বরং বড় দলগুলোর জন্যও হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
মেহদি তারেমির নেতৃত্বে আক্রমণভাগ এবং সংগঠিত রক্ষণভাগের সমন্বয়ে তারা বেলজিয়ামের মতো শক্তিশালী দলকে আটকে দিয়েছে। শেষ ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে ইতিবাচক ফল পেলেই নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে তাদের সামনে।
অন্যদিকে বেলজিয়ামের জন্য এখন আর ভুলের সুযোগ নেই। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয় নিশ্চিত করতে না পারলে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ার শঙ্কা বাস্তবে রূপ নিতে পারে।