চোট থেকে ফিরে প্রথম ম্যাচেই গোল করলেন লামিন ইয়ামাল। মিকেল ওয়ারজাবালের জোড়া গোল ও আত্মঘাতী গোলে সৌদি আরবকে ৪-০ ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপ ‘এইচ’-এর শীর্ষে উঠেছে স্পেন।
ইয়ামালের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন, সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিল স্পেন
ঢাকা, ২১ জুন ২০২৬: দীর্ঘদিনের চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরেই আলো ছড়ালেন স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামাল। তার গোলেই আক্রমণভাগের স্থবিরতা কাটিয়ে দুর্দান্ত ছন্দে ফিরে এসেছে স্পেন। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ ‘এইচ’-এর ম্যাচে সৌদি আরবকে ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারিয়ে টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম জয় তুলে নিয়েছে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নরা।
হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে প্রায় দুই মাস মাঠের বাইরে ছিলেন ১৮ বছর বয়সী ইয়ামাল। বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচেই শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়ে মাত্র ১০ মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। সেই গোলের মাধ্যমে স্পেনের দীর্ঘ গোলখরারও অবসান ঘটে।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে আধিপত্য বিস্তার করে স্পেন। ইয়ামালের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর সৌদি রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে নেয় লা রোজারা।
প্রথম গোলের পর আক্রমণের ধার বাড়িয়ে দেন স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড মিকেল ওয়ারজাবাল। ম্যাচের ২১ ও ২৪ মিনিটে পরপর দুই গোল করে মাত্র ২৪ মিনিটের মধ্যেই স্পেনকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। দুই গোলের ক্ষেত্রেই স্পেনের আক্রমণভাগের গতিময়তা ও সৌদি রক্ষণভাগের সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
প্রথমার্ধেই হ্যাটট্রিকের সুযোগ পেয়েছিলেন ওয়ারজাবাল। তবে তার জোরালো শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসায় ব্যক্তিগত তৃতীয় গোলটি আর পাওয়া হয়নি।
ইয়ামালের প্রত্যাবর্তনে স্বস্তি
বিশ্বকাপ শুরুর আগে অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী দল হিসেবে বিবেচিত স্পেন প্রথম ম্যাচে নবাগত কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে সমালোচনার মুখে পড়ে। সেই ম্যাচে বলের দখলে আধিপত্য থাকলেও গোলের দেখা পায়নি দলটি।
সৌদি আরবের বিপক্ষে ম্যাচে ইয়ামালের প্রত্যাবর্তন স্পেনের আক্রমণভাগে নতুন প্রাণ সঞ্চার করে। তার গতি, ড্রিবলিং এবং আক্রমণাত্মক মানসিকতা পুরো ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেয়।
তবে দীর্ঘদিনের ইনজুরি থেকে ফিরে আসায় তাকে নিয়ে ঝুঁকি নিতে চাননি স্পেন কোচ লুইস ডি লা ফুয়েন্তে। ফলে বিরতির সময়ই ইয়ামালকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়।

সমালোচনার জবাব মাঠেই দিল স্পেন
প্রথম ম্যাচের হতাশাজনক ফলাফলের পর স্প্যানিশ দল ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। কোচ লুইস ডি লা ফুয়েন্তে ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, সমালোচনা তার খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করেছে।
সৌদি আরবের বিপক্ষে মাঠের পারফরম্যান্সে সেই কথারই প্রমাণ মিলেছে। পেড্রো পোরো, ডানি ওলমো এবং অ্যালেক্স বায়েনার মতো খেলোয়াড়দের সুযোগ দিয়ে একাদশে পরিবর্তন আনেন তিনি, যা দারুণভাবে কাজে দেয়।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বকাপে নিজেদের সর্বশেষ গোলের পর থেকে স্পেন ২,৫০০-এর বেশি পাস এবং ৫০টিরও বেশি শট নিয়েছিল। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটান ইয়ামাল।
নিষ্প্রভ সৌদি আরব
প্রথম ম্যাচে উরুগুয়ের বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্র করা সৌদি আরব এদিন পুরোপুরি ছন্দহীন ছিল। ম্যাচের অধিকাংশ সময় তারা স্পেনের আক্রমণ ঠেকাতেই ব্যস্ত ছিল।
সৌদি কোচ গিওর্গিওস ডোনিস বিশেষভাবে হতাশ হয়েছেন সেট-পিস থেকে দুই গোল হজম করায়। তার দল রক্ষণভাগে একাধিক ভুল করেছে, যার সুযোগ কাজে লাগিয়ে বড় জয় নিশ্চিত করে স্পেন।
আত্মঘাতী গোলে পূর্ণতা পেল জয়
দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণ অব্যাহত রাখে স্পেন। ম্যাচের শেষদিকে কর্নার থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে মার্ক কুকুরেলার শট প্রথমে ঠেকিয়ে দেন সৌদি গোলরক্ষক মোহাম্মদ আল-ওয়েসিস।
তবে ফিরতি বল দুর্ভাগ্যজনকভাবে ডিফেন্ডার হাসান আল-টামবাকতির গায়ে লেগে জালে জড়িয়ে গেলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৪-০। আত্মঘাতী এই গোলেই ম্যাচের চূড়ান্ত ফল নির্ধারিত হয়।

গ্রুপের শীর্ষে স্পেন
এই জয়ের ফলে গ্রুপ ‘এইচ’-এর শীর্ষে উঠে গেছে স্পেন। প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের সঙ্গে ড্রয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচে বড় জয় তাদের নকআউট পর্বে ওঠার পথে অনেকটাই এগিয়ে দিয়েছে।
অন্যদিকে সৌদি আরবের সামনে এখন কঠিন সমীকরণ। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষে জয় ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই।
সামনে গুরুত্বপূর্ণ লড়াই
আগামী শুক্রবার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্পেন মুখোমুখি হবে দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের। গ্রুপসেরা হওয়ার লড়াইয়ে ম্যাচটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অন্যদিকে হিউস্টনে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষে মাঠে নামবে সৌদি আরব। সেই ম্যাচে জয় পেলে ১৯৯৪ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠার সুযোগ তৈরি হতে পারে আরব দেশটির সামনে।
দুর্দান্ত এই জয়ের মাধ্যমে স্পেন শুধু তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টই অর্জন করেনি, বরং শিরোপা জয়ের দৌড়ে নিজেদের শক্ত অবস্থানেরও জানান দিয়েছে। আর চোট কাটিয়ে ফিরে আসা লামিন ইয়ামাল প্রমাণ করেছেন, তিনি বর্তমান স্প্যানিশ দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রগুলোর অন্যতম।