যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব আবেদন ফি ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। নিম্ন আয়ের আবেদনকারীদের ফি ছাড়ও বাতিল হতে পারে। বিস্তারিত পড়ুন।
মার্কিন নাগরিকত্ব পেতে খরচ বাড়ানোর প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসনের
ওয়াশিংটন, ২৩ জুন ২০২৬: যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জনের জন্য আবেদনকারী অভিবাসীদের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন এক প্রস্তাবিত বিধিমালার মাধ্যমে নাগরিকত্ব আবেদন ফি কয়েকশ ডলার পর্যন্ত বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে ইতোমধ্যে অভিবাসী অধিকারকর্মী ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ (DHS) সোমবার প্রকাশিত এক প্রস্তাবে জানিয়েছে, নাগরিকত্বের জন্য প্রয়োজনীয় Form N-400 জমা দেওয়ার খরচ বড় পরিসরে বৃদ্ধি করা হবে। প্রস্তাব অনুযায়ী, কাগজে আবেদন করলে বর্তমান ৭৬০ ডলার থেকে ফি বেড়ে ১,৩৩০ ডলারে পৌঁছাবে, যা প্রায় ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি। অন্যদিকে অনলাইনে আবেদনকারীদের জন্য ফি ৭১০ ডলার থেকে বেড়ে ১,২৮০ ডলার হবে, যা প্রায় ৮০ শতাংশ বেশি।
শুধু ফি বৃদ্ধিই নয়, বর্তমানে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের আবেদনকারীদের জন্য থাকা বিশেষ ছাড়ও বাতিল করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে যেসব পরিবারের আয় ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার ৪০০ শতাংশ বা তার নিচে, তারা কম ফি দিয়ে আবেদন করার সুযোগ পান। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে সেই সুবিধা আর থাকবে না।
এছাড়া নাগরিকত্ব আবেদন ফি সম্পূর্ণ মওকুফের যে সুযোগ এতদিন ছিল, সেটিও বাতিল করতে চায় DHS। তবে বর্তমান ও সাবেক মার্কিন সামরিক সদস্যরা আগের মতোই ফি ছাড় সুবিধা পাবেন বলে জানানো হয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, নাগরিকত্ব আবেদন যাচাই-বাছাই, নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় যে প্রকৃত ব্যয় হয়, বর্তমান ফি তা পূরণ করতে পারছে না। তাই আবেদনকারীদের কাছ থেকেই পুরো খরচ আদায়ের নীতি গ্রহণ করা হচ্ছে।
DHS-এর ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান ফি কাঠামোর কারণে নাগরিকত্ব আবেদন প্রক্রিয়ার একটি অংশের ব্যয় অন্য অভিবাসন-সংক্রান্ত আবেদন ফি থেকে সমন্বয় করতে হয়। নতুন প্রস্তাবের মাধ্যমে সেই ব্যবস্থা থেকে সরে আসতে চায় সরকার।
এই উদ্যোগ এসেছে এমন এক সময়ে, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে বৈধ ও অবৈধ—উভয় ধরনের অভিবাসন নিয়ন্ত্রণকে অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেছেন। প্রশাসন ইতোমধ্যে বিভিন্ন অভিবাসন কর্মসূচি সীমিত করার পদক্ষেপ নিয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগও ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
প্রস্তাবিত নীতিতে বলা হয়েছে, মার্কিন নাগরিকত্ব যুক্তরাষ্ট্র সরকারের দেওয়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিবাসন সুবিধাগুলোর একটি। তাই নাগরিকত্ব আবেদনকারীদেরই এই প্রক্রিয়ার পূর্ণ ব্যয় বহন করা উচিত বলে মনে করছে DHS।
তবে অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা এই সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ফি এত বেশি বৃদ্ধি পেলে বহু স্থায়ী বাসিন্দার জন্য নাগরিকত্ব অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অভিবাসন নীতিবিষয়ক সংগঠন American Immigration Council-এর সিনিয়র ফেলো অ্যারন রাইখলিন-মেলনিক বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র সরকার নাগরিকত্ব অর্জনে মানুষকে উৎসাহিত করার জন্য আবেদন ফি তুলনামূলকভাবে কম রেখেছিল। নতুন প্রস্তাব সেই নীতির বড় পরিবর্তন নির্দেশ করছে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, উচ্চ ফি অনেক গ্রিন কার্ডধারী অভিবাসীকে নাগরিকত্বের আবেদন থেকে নিরুৎসাহিত করতে পারে। ফলে দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ও কর প্রদানকারী অনেক অভিবাসী নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ থেকে পিছিয়ে যেতে পারেন।
তবে এখনই এই পরিবর্তন কার্যকর হচ্ছে না। প্রস্তাবিত বিধিমালা বাস্তবায়নের আগে জনমত গ্রহণসহ বেশ কয়েকটি প্রশাসনিক ধাপ সম্পন্ন করতে হবে। সেই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে এটি সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে মার্কিন নাগরিকত্ব আবেদন প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বড় আর্থিক পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।