গ্রিসের বিভিন্ন দ্বীপে মানুষের মতো দাঁতওয়ালা বিষাক্ত সিলভার-চিকড টোডফিশের উপদ্রব বেড়েছে। জেলেদের ক্ষতি ঠেকাতে মাছ ধরলে পুরস্কার দিচ্ছে সরকার। জানুন বিস্তারিত।
মানুষের মতো দাঁতওয়ালা বিষাক্ত মাছের দাপটে আতঙ্ক গ্রিসে, জেলেদের ধরতে দিচ্ছে নগদ পুরস্কার
সুয়েজ খাল হয়ে ভূমধ্যসাগরে প্রবেশের আশঙ্কা; পর্যটন মৌসুমে সতর্কতা জারি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ২৭ জুন ২০২৬
পর্যটন মৌসুমের শুরুতেই গ্রিসের বিভিন্ন দ্বীপে মানুষের মতো ধারালো দাঁতওয়ালা এক বিষাক্ত মাছের উপস্থিতি উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়ভাবে 'লাগোকেফালোস' নামে পরিচিত এই মাছটি জেলেদের জাল ছিঁড়ে ফেলছে, ধরা মাছ খেয়ে ফেলছে এবং মানুষের জন্যও সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি করছে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, উষ্ণ সমুদ্রস্রোতের প্রভাবে মাছগুলো সুয়েজ খাল অতিক্রম করে ভূমধ্যসাগরে প্রবেশ করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ ধরনের মাছের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।
মানুষের মতো দাঁত, শরীরে মারাত্মক বিষ
সিলভার-চিকড টোডফিশ বা পাফার ফিশ পরিবারের এই প্রজাতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো মানুষের দাঁতের মতো শক্ত ও ধারালো দাঁত। এর ত্বক ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গে শক্তিশালী নিউরোটক্সিন থাকে, যা মানবদেহে প্রবেশ করলে গুরুতর বিষক্রিয়া এমনকি হৃদযন্ত্রের কার্যক্রমও ব্যাহত করতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, মাছটি সহজেই ধাতব ক্যান, কাঠ এবং শক্ত বস্তু কামড়ে ক্ষতিগ্রস্ত করতে সক্ষম।
আহত সাঁতারু, সতর্ক করল গ্রিক রেড ক্রস
গ্রিক রেড ক্রস জনসাধারণের জন্য সতর্কতা জারি করে জানিয়েছে, এই মাছের কামড়ে গুরুতর রক্তক্ষরণ হতে পারে। একই সঙ্গে বিষাক্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গ স্পর্শ বা খাওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এথেন্সের কাছে ভারকিজা সৈকতে সাঁতার কাটার সময় এক নারী এই মাছের কামড়ে আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে ক্ষতস্থানে সেলাই দিতে হয়।
জেলেদের বড় ক্ষতির মুখে গ্রিস
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন উপকূলীয় জেলেরা। তাদের অভিযোগ, এই মাছ জালে আটকা পড়ে জাল ছিঁড়ে ফেলছে এবং ধরা মাছ নষ্ট করে দিচ্ছে।
ক্রিট দ্বীপের এক জেলে সমিতির প্রতিনিধি জানান, অনেক সময় একদিন মাছ ধরার পর পরবর্তী কয়েক দিন শুধু ক্ষতিগ্রস্ত জাল মেরামত করতেই ব্যয় করতে হচ্ছে। এতে তাদের উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।
মাছ ধরলে মিলছে সরকারি পুরস্কার
পরিস্থিতি মোকাবিলায় গ্রিস সরকার নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। এখন থেকে এই বিষাক্ত মাছ ধরতে পারলে জেলেদের প্রতি কিলোগ্রামে ৫.৩৩ ইউরো করে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে।
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংগ্রহ করা মাছগুলো নিরাপদভাবে সংরক্ষণ করে পরে ধ্বংস করা হবে। প্রয়োজনে এই কর্মসূচি দেশের আরও বিস্তৃত সমুদ্রসীমায় চালু করা হতে পারে।
পর্যটকদের জন্য কী সতর্কতা?
যদিও বিভিন্ন দ্বীপে মাছটির উপস্থিতি ধরা পড়েছে, তবুও পর্যটন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে জনপ্রিয় সৈকত ও নির্ধারিত সাঁতারের এলাকায় এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ঝুঁকির প্রমাণ মেলেনি।
ক্রিটের চিকিৎসক ও পর্যটন সংগঠনগুলোর যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভূমধ্যসাগরে এই মাছ বহু বছর ধরেই রয়েছে। তাই অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সারসংক্ষেপ
- গ্রিসের বিভিন্ন দ্বীপে বিষাক্ত সিলভার-চিকড টোডফিশের সংখ্যা বাড়ছে।
- মাছটির মানুষের মতো শক্ত দাঁত এবং শরীরে শক্তিশালী নিউরোটক্সিন রয়েছে।
- জেলেদের জাল ও মাছের ব্যাপক ক্ষতি করছে এই প্রজাতি।
- গ্রিস সরকার প্রতি কেজি মাছ ধরার জন্য ৫.৩৩ ইউরো পুরস্কার ঘোষণা করেছে।
- পর্যটকদের আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।